প্রতিদিনের জীবন

প্রতিদিনের জীবন
ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে করণীয়

ইসলামী জীবন

ভাঙ্গায় হেবা দলিলকৃত জমি দখলে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

ভাঙ্গায় হেবা দলিলকৃত জমি দখলে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ


​ডেস্ক রিপোর্ট 

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পালক পিতার কাছ থেকে হেবা সূত্রে প্রাপ্ত জমি দখলে বাধা ও বাড়ি নির্মাণকাজ বন্ধসহ প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে গত ০২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মানিক মাতুব্বর (২৬) নামের এক যুবক বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের গোয়ালদী গ্রামের মানিক মাতুব্বরকে ছোটবেলা থেকেই সন্তান স্নেহে লালন-পালন করেন নিঃসন্তান মান্নান মাতুব্বর। মান্নান মাতুব্বর জীবিত থাকা অবস্থায় তাঁর নিজ মালিকানাধীন ১১৭ নং গোয়ালদী মৌজার আর.এস ৪৫৫, এস.এ ৩৩৭, ৩৯, বুজরত খতিয়ান নং-৬২০, ৪৪৩ এর আর.এস খতিয়ান নং-৫৩১ এর আর.এস/এস.এ দাগ নং-৫৬২, বি.এস দাগ নং-৭৩৮ এর ২৫ শতাংশ এবং আর.এস/এস.এ দাগ নং-৩৪৩, বি.এস দাগ নং-৪৪৫ এর ৩৭ শতাংশ—মোট ৬২ শতাংশ জমির মধ্যে ২৬ শতাংশ জমি মানিক মাতুব্বরকে রেজিস্ট্রি হেবা দলিল (দলিল নং-৪৮১১, তারিখ: ২৪/১০/২০১৭) মূলে হস্তান্তর করেন।

​ভুক্তভোগী মানিক মাতুব্বর জানান, পালক পিতা মান্নান মাতুব্বরের মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর চাচা কালাম মাতুব্বর (৫৮), চাচাতো ভাই মোস্তফা ওরফে কালোন মাতুব্বর (৬০), সুজন মাতুব্বর (৩০) ও ছকের উদ্দিন মাতুব্বর (২৫) উক্ত জমি ও আমার পালক মায়ের নামে থাকা জমি নিয়ে বিভিন্নভাবে বিরোধ সৃষ্টি ও হয়রানি করে আসছেন।

​তিনি আরও জানান, রেজিস্ট্রিকৃত জমিতে তিনি বসতবাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করলে অভিযুক্তরা বাধা প্রদান করেন। গত ০২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯:৩০ ঘটিকায় রাজমিস্ত্রি দিয়ে ঘরের কাজ করাকালে অভিযুক্তরা কাজ বন্ধ করে দেন এবং পুনরায় কাজ শুরু করলে খুন-জখমের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। 

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠক হলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

​এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মানিক মাতুব্বর ভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সাক্রাতুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। 

তুজারপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা বদিউজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, শোকজ

তুজারপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা  বদিউজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, শোকজ

ডেস্ক রিপোর্ট 

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা বদিউজ্জামান বদুর বিরুদ্ধে জাল জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সেবা গ্রহীতাদের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও ভুয়া নথির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। 

সেবাগ্রহীতাদের নানামুখী হয়রানি, জমি জবরদখল ও প্রশাসনিক অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তুজারপুর ইউনিয়ন তহসিলদার বদীউজ্জামান বদুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। প্রশাসনিক দোহাই দিয়ে শোকজ করা হলেও অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে এই কর্মকর্তার দুর্ধর্ষ সব অপরাধচিত্র।

​অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের সমষ্টিগত বক্তব্য অনুযায়ী, তুজারপুর ইউনিয়ন তহসিলদার বদীউজ্জামান বদু জালিয়াতির এক সুচতুর ফাঁদ পাতেন। তিনি কাপুড়িয়া সদরদি এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের মূল অর্থদাতা বদীউজ্জামান বদু নিজে হলেও, প্রতারণার মাধ্যমে কৌশলে দলিলে নিজের নামের পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠ আরও পাঁচজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।

তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল জমিটির প্রকৃত অংশীদারদের প্রতারিত করা ও ঠকানো। জমি ক্রয়ের পর সেই জায়গার ওপর একটি অস্থায়ী ছাঁপরা ঘর উত্তোলন করে জমিটি কৌশলে রেললাইনের অধিগ্রহণের আওতায় ফেলেন। ছাঁপরা ও ভুয়া স্থাপনার সরকারি ক্ষতিপূরণের টাকা ইতিমধ্যেই নিজের ও সহযোগীদের নামে তুলে নিয়েছেন তিনি। বর্তমানে মূল জমির ক্ষতিপূরণের সুবিধাও প্রকৃত অংশীদারদের বঞ্চিত করে, নিজের ও দলিলে থাকা অন্য পাঁচজনের নামের ওপর ভর করে পুরো টাকা আত্মসাতের পায়তারা চালাচ্ছেন তিনি। আদালতের আশ্রয় নিয়েও ক্ষমতার দাপটে টানা দুই বছর ধরে মূল পাওনাদারদের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখেছেন এই তহসিলদার।

​স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর যৌথ বিবৃতিতে জানা যায়, তহসিলদার বদীউজ্জামান বদুর স্থায়ী বাড়ি গোপালগঞ্জ এলাকায় হলেও অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন পৌর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ঘুষ-দুর্নীতির অবৈধ টাকায় তিনি ফরিদপুর শহর এবং ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী এলাকায় স্বপন ডাক্তারের বাড়ির পার্শ্ববর্তী স্থানে গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল বহুতল ভবন।

এলাকাবাসী চরম ক্ষোভের সাথে জানান, যেখানেই তাকে বদলি করা হোক না কেন কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আবারও রহস্যজনক ভাবে ভাঙ্গায় স্বপদে বহাল হয়ে আসেন।

​তুজারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে এসে প্রতিদিন হয়রানির শিকার হওয়া সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ—সাধারণ মানুষের সাথে চরম দুর্ব্যবহার, ঘুষ দাবি এবং ভুয়া কাগজ বানিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা ঝুলিয়ে রাখা এই কর্মকর্তার নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। 

সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তারা জানান, এই তহশিলদার একটা মিউটেশনের জন্য পাচ থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। শুধু তাই নয় তার কাছে কাজ দিলে দীর্ঘদিন ঘুরান। এছাড়াও তিনি কাজ নেওয়ার পর নানা টাল বাহানায় আরও টাকা দাবী করেন এবং টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তার নিকট থেকে মিউটেশন পাওয়া যায় না। আমরা এই অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই। 

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এই অফিসের অফিস সহায়ক জুলহাস সেবা নিতে আসা প্রায় সকলের সাথেই দুর্ব্যবহার করেন। প্রায় প্রত্যেকের সাথেই নোংরা ভাষা ব্যবহার করেন। আমরা কি সেবা নিতে এসে অন্যায় করেছি।  

​ইউএনও কর্তৃক শোকজ পাওয়ার কথা স্বীকার করে এই কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনিক অবহেলার কারণে তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং তিনি নির্ধারিত সময়ে শোকজের জবাব দেবেন। তবে তিনি সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও মিউটেশন বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। 

এলাকাবাসী ও প্রতারিত ভুক্তভোগীদের জোর দাবি, হোগলাডাঙ্গী সদরদী ও কাপুড়িয়া সদরদী এলাকার জালিয়াতিসহ তাঁর যাবতীয় অপকর্মের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বিক্ষোভের মুখে যারা পালিয়ে যায় তারা আবার ফিরে এসে কখনো রাজনীতি করতে পারে না - শহীদুল ইসলাম বাবুল

বিক্ষোভের মুখে যারা পালিয়ে যায় তারা আবার ফিরে এসে কখনো রাজনীতি করতে পারে না - শহীদুল ইসলাম বাবুল

ডেস্ক রিপোর্ট 

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেছেন, সময় পেলেই এলাকার মানুষের কাছে চলে আসি, তাদের সমস্যার কথা শুনে সমাধানের চেষ্টা করি। কিন্তু আরেকটি দল আছে তারা শুধু গিবত আর প্রতিহিংসা নিয়ে আছে, কিভাবে সরকারকে বিরক্ত করা যায়। রাতের আধারে কোনো এক জায়গায় ফুসফাস করে মাথা জাগান দেয়, বিদেশ থেকে পলাতক গ্রুপ এদেরকে ইন্ধন দেয় আর এরা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ন স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথাগুলো বলেন শহিদুল ইসলাম বাবুল।

তিনি আরো বলেন, এদের রাজনীতিতে কোনো ভবিষ্যত নেই। দুনিয়ার ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যাবে না যারা বিক্ষোভের মুখে পালিয়ে যায় তারা আবার ফিরে এসে কখনো রাজনীতি করতে পারে, দুনিয়ার ইতিহাসে এটা নেই।

শহিদুল ইসলাম বাবুল আরো বলেন, আরেক গ্রুপ আছে মনের আনন্দে তারা লংমার্চ করছে, সরকারকে কিভাবে বিব্রত করা যায় তা করার জন্য তারা ব্যস্ত। অর্থনৈতিক সংকট চলছে, তারা সরকারকে সহযোগীতা না করে বিব্রত করার চেষ্টা করছে। এতে কোনো লাভ হবেনা। গণঅভ্যুত্থান সকালে বিকালে হয় না। অলিক স্বপ্ন দু:স্বপ্নে পরিনত হবে।

এ সময় ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বিটু মুন্সি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান তুরান, ঢাকা মহানগর যুবদল পল্টন থানার সদস্য ইমন মিয়া, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রিপন মিয়া, সাবেক পুলিশ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াসউদ্দিনসহ উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।