তুজারপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা বদিউজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, শোকজ
ডেস্ক রিপোর্ট
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা বদিউজ্জামান বদুর বিরুদ্ধে জাল জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সেবা গ্রহীতাদের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও ভুয়া নথির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে।
সেবাগ্রহীতাদের নানামুখী হয়রানি, জমি জবরদখল ও প্রশাসনিক অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তুজারপুর ইউনিয়ন তহসিলদার বদীউজ্জামান বদুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। প্রশাসনিক দোহাই দিয়ে শোকজ করা হলেও অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে এই কর্মকর্তার দুর্ধর্ষ সব অপরাধচিত্র।
অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের সমষ্টিগত বক্তব্য অনুযায়ী, তুজারপুর ইউনিয়ন তহসিলদার বদীউজ্জামান বদু জালিয়াতির এক সুচতুর ফাঁদ পাতেন। তিনি কাপুড়িয়া সদরদি এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের মূল অর্থদাতা বদীউজ্জামান বদু নিজে হলেও, প্রতারণার মাধ্যমে কৌশলে দলিলে নিজের নামের পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠ আরও পাঁচজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।
তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল জমিটির প্রকৃত অংশীদারদের প্রতারিত করা ও ঠকানো। জমি ক্রয়ের পর সেই জায়গার ওপর একটি অস্থায়ী ছাঁপরা ঘর উত্তোলন করে জমিটি কৌশলে রেললাইনের অধিগ্রহণের আওতায় ফেলেন। ছাঁপরা ও ভুয়া স্থাপনার সরকারি ক্ষতিপূরণের টাকা ইতিমধ্যেই নিজের ও সহযোগীদের নামে তুলে নিয়েছেন তিনি। বর্তমানে মূল জমির ক্ষতিপূরণের সুবিধাও প্রকৃত অংশীদারদের বঞ্চিত করে, নিজের ও দলিলে থাকা অন্য পাঁচজনের নামের ওপর ভর করে পুরো টাকা আত্মসাতের পায়তারা চালাচ্ছেন তিনি। আদালতের আশ্রয় নিয়েও ক্ষমতার দাপটে টানা দুই বছর ধরে মূল পাওনাদারদের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখেছেন এই তহসিলদার।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর যৌথ বিবৃতিতে জানা যায়, তহসিলদার বদীউজ্জামান বদুর স্থায়ী বাড়ি গোপালগঞ্জ এলাকায় হলেও অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন পৌর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ঘুষ-দুর্নীতির অবৈধ টাকায় তিনি ফরিদপুর শহর এবং ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী এলাকায় স্বপন ডাক্তারের বাড়ির পার্শ্ববর্তী স্থানে গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল বহুতল ভবন।
এলাকাবাসী চরম ক্ষোভের সাথে জানান, যেখানেই তাকে বদলি করা হোক না কেন কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আবারও রহস্যজনক ভাবে ভাঙ্গায় স্বপদে বহাল হয়ে আসেন।
তুজারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে এসে প্রতিদিন হয়রানির শিকার হওয়া সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ—সাধারণ মানুষের সাথে চরম দুর্ব্যবহার, ঘুষ দাবি এবং ভুয়া কাগজ বানিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা ঝুলিয়ে রাখা এই কর্মকর্তার নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তারা জানান, এই তহশিলদার একটা মিউটেশনের জন্য পাচ থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। শুধু তাই নয় তার কাছে কাজ দিলে দীর্ঘদিন ঘুরান। এছাড়াও তিনি কাজ নেওয়ার পর নানা টাল বাহানায় আরও টাকা দাবী করেন এবং টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তার নিকট থেকে মিউটেশন পাওয়া যায় না। আমরা এই অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এই অফিসের অফিস সহায়ক জুলহাস সেবা নিতে আসা প্রায় সকলের সাথেই দুর্ব্যবহার করেন। প্রায় প্রত্যেকের সাথেই নোংরা ভাষা ব্যবহার করেন। আমরা কি সেবা নিতে এসে অন্যায় করেছি।
ইউএনও কর্তৃক শোকজ পাওয়ার কথা স্বীকার করে এই কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনিক অবহেলার কারণে তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং তিনি নির্ধারিত সময়ে শোকজের জবাব দেবেন। তবে তিনি সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও মিউটেশন বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।
এলাকাবাসী ও প্রতারিত ভুক্তভোগীদের জোর দাবি, হোগলাডাঙ্গী সদরদী ও কাপুড়িয়া সদরদী এলাকার জালিয়াতিসহ তাঁর যাবতীয় অপকর্মের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।







