প্রতিদিনের জীবন

প্রতিদিনের জীবন
ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে করণীয়

ইসলামী জীবন

‘প্রতিদিনের কাগজ’ এর প্রকাশনা বন্ধে হাইকোর্টের রুল

‘প্রতিদিনের কাগজ’ এর প্রকাশনা বন্ধে হাইকোর্টের রুল

স্টাফ রিপোর্টার 

​যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে প্রকাশিত দৈনিক 'প্রতিদিনের কাগজ' পত্রিকাটির প্রকাশনা কেন বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালতের এই আদেশের পর এবং পত্রিকাটির মালিকানা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ পাঠকদের মনে এখন বড় প্রশ্ন— ‘প্রতিদিনের কাগজ, তুমি কার?’


​গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। সম্প্রতি আদেশের অনুলিপিটি প্রকাশ্যে আসায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, 'প্রতিদিনের কাগজ' পত্রিকাটির দাপ্তরিক ডিক্লেয়ারেশনে সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে মাহমুদুল হাসান রতন-এর নাম নিবন্ধিত রয়েছে। অথচ দীর্ঘ দিন ধরে পত্রিকাটির প্রিন্টার্স লাইনে (পত্রিকার শেষ পাতায় মুদ্রণ সংক্রান্ত তথ্য) সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে ইয়াসমিন শীলা এবং ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে খায়রুল আলম রফিক-এর নাম প্রকাশ করা হচ্ছে।

​আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিক্লেয়ারেশনের বাইরে ভিন্ন কাউকে সম্পাদক বা প্রকাশক হিসেবে প্রচার করা ‘ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধীকরণ) আইন, ১৯৭৩’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মূলত এই জালিয়াতি ও অস্পষ্টতার কারণেই পত্রিকাটির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার সাবেক সাবেক সহ-সম্পাদক এবং দৈনিক প্রলয় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলামের দায়ের করা রিট পিটিশনের (নম্বর: ১৮২৫১/২০২৫) প্রেক্ষিতে আদালত শুনানি শেষে নিম্নলিখিত বিষয়ে 'রুল নিশি' জারি করেন। ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী কেন এই অবৈধ পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ করা হবে না, তা সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

​রিটে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (DFP) মহাপরিচালক, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (DC), জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং পত্রিকাটির বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খায়রুল আলম রফিককে বিবাদী করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী ০৪ (চার) সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

​আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সাকিব মাবুদ। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (D.A.G) খান জিয়াউর রহমান এবং মোহাম্মদ আব্দুল করিমসহ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীগণ।

​আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, রুলের নোটিশটি প্রচলিত নিয়ম ও রেজিস্টার্ড ডাক-উভয় মাধ্যমেই বিবাদীদের ঠিকানায় দ্রুত পৌঁছাতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পত্রিকাটির ভবিষ্যৎ এবং মালিকানা নিয়ে সৃষ্টি হওয়া এই আইনি জটিলতা আরও ঘনীভূত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম বলেন, ​"দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের অবৈধ প্রকাশনা এবং প্রতারণার প্রতিকার চেয়ে আমি মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেছি। মূলত ২০২২ সালে আমি এবং আমার বর্ত মান প্রতিষ্ঠানের প্রধান সম্পাদক লায়ন মোঃ মির্জা সোবেদ আলী উক্ত পত্রিকার ডেকোরেশন ও আনুষাঙ্গিক খরচের জন্য খায়রুল আলম রফিককে মোটা অংকের টাকা প্রদান করি। এরপর আমাকে সহ-সম্পাদক এবং মির্জা সোবেদ আলীকে ব্যবস্থাপনা সম্পাদক পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

​পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি যে, পত্রিকাটি মূলত ময়মনসিংহের একটি আঞ্চলিক প্রকাশনা পত্রিকা এবং খায়রুল আলম রফিক এর প্রকৃত মালিক নন। বিষয়টি জানার পর আমরা আমাদের পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আমাদের সম্মানহানি করেন।

​প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে আমি আইনের আশ্রয় গ্রহণ করি। আমার দায়েরকৃত রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট 'দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ'-এর অবৈধ প্রকাশনা কেন বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, আদালতের এই নির্দেশনার মাধ্যমে প্রতারক খাইরুল আলম রফিকের প্রকৃত মুখোশ উন্মোচিত হবে এবং অবৈধভাবে প্রকাশিত এই পত্রিকার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।"

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কালবেলার সাংবাদিক শামীমের বিচার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কালবেলার সাংবাদিক শামীমের বিচার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক রিপোর্ট 

‎ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দৈনিক কালবেলা পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সাইফুল্লাহ শামীম এর বিচার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্থানীয় বিএনপি'র নেতা কর্মীরা। 

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী গাজীর বটতলায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে, শামীমের বিচার দাবী জানিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ভাঙ্গা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মুন্সির সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগীর বোন তাহারাত আক্তার।

‎এ সময় তিনি বলেন, দুই বছর পুর্বে ঘর মালিক জহির উদ্দিন মুন্সী (রামিম) এর একটি গোডাউন ভাড়া নেন সাইফুল্লাহ শামীম। তিনি, দুই তিন মাস ভাড়া ঠিকমত পরিশোধ করলেও পরবর্তীতে ভাড়া নিয়ে গড়িমসি শুরু করেন। সাত আট মাসের ভাড়া বাকী হয়। ভাড়া চাইলে দিবো, দিচ্ছি বলে কালক্ষেপন করে দুই এক মাসের ভাড়া দেয় বাকী টাকা রয়ে যায়। কয়েক মাস পূর্বে, আমার ভাই রামিম মুন্সী তাকে গোডাউন ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ করেন। তিনি আমার চাচা, চাচাতো ভাই ও ভাতিজার সঙ্গে কথা বলে কয়েকবার সময় নিয়েও ভাড়া পরিশোধ করেন না। 


লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন- সম্প্রতি, আমার ভাই তার কাছে ভাড়ার টাকা চাইলে তিনি আমার ভাইকে হুমকি দিয়ে বলে- হ্যাডম দেখাস? আমি সাংবাদিক, ভাড়া কিসের? ভাড়া দিবো না, পারলে নিস। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে, শামীম পড়ে গিয়ে টাইলসের সাথে আঘাত লেগে আহত হন। অথচ বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলে প্রচার করা হয়েছে, যা সম্পুর্ন মিথ্যা এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমাদের মুন্সি পরিবারের সম্মান হানি করতে শামীম এই মিথ্যা প্রচার করছে।   এ ঘটনাকে তিনি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে আমার ভাইকে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে মানববন্ধন ও থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। এই সংবাদ সম্মেলন থেকে আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সাইফুল্লাহ শামীমের বিচার দাবী করছি। আমাদের বাবা নেই, এই ভাড়ার টাকায় আমাদের লেখাপড়া ও অন্যান্য খরচ চলে। 

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই শামীম উপজেলা জুড়ে সাংবাদিক পরিচয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে। মানুষকে ব্লাকমেইল করে। আপনারা খোঁজ নিলে তার সকল অপরাধের প্রমাণ পাবেন। আপনারা জাতির বিবেক, আপনারা সঠিক সংবাদ প্রকাশ করে শামীমের মত এরকম চাঁদাবাজ সাংবাদিকদের হাত থেকে সমাজকে রক্ষা করেন। আমরা প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার দাবী করি। 

‎এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম, মুন্সী গোলাম আজম, আকাশ মুন্সী প্রমুখ।

ফরিদপুর-৪ আসনে রিক্সা-ধানের শীষের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইের আভাস! নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিলেন মিজানুর রহমান

ফরিদপুর-৪ আসনে রিক্সা-ধানের শীষের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইের আভাস! নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিলেন মিজানুর রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে ফরিদপুর-৪ আসনের ভোটের মাঠ। প্রত্যেক প্রার্থীই যার যার মতকরে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে এ আসনের ভোটারদের মন্তব্য রিক্সা ও ধানের শীষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ও দশ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা তার শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছেন। 

তার শক্ত অবস্থান জানান দিতে অনুষ্ঠিত হলো নির্বাচনী গণমিছিল। এতে তিনটি উপজেলার কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তাঁরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত জোট থেকে তাকে একক প্রার্থী নির্ধারণ করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। 

২৮ জানুয়ারি বুধবার বিকেল ৫ টায় ভাঙ্গা উপজেলার ভাঙ্গা ঈদগাহ ময়দান থেকে এই মিছিলটি শুরু হয়ে ভাঙ্গা বাজার প্রদিক্ষণ করে গোলচত্ত্বর এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

এই মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন মাওলানা মো. মিজানুর রহমান মোল্লা। এ সময় তিনি ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার ব্যক্ত করে বলেন- "দল আমাকে মনোনীত করেছেন, এই আসন উন্মুক্ত থাকায় জামায়াতের প্রার্থীও রয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি আমার দলের আমীর আল্লামা মামুনুল হক ভাঙ্গায় জনসভা করবেন। আশা করি, ওইদিনই জোটের বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে এবং আমাকে সমর্থন করবেন। যার প্রেক্ষিতে আজকের এই গণমিছিল।  গণমিছিলের উপস্থিতি বলে দিচ্ছে রিক্সা মার্কা বিজয়ী হবে ইনশাল্লাহ। আমি বিজয়ী হলে ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাব।"

তিনি আরও বলেন- "আমরা প্রশাসনের কাছে সুন্দর ও সুষ্ঠ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের সামনে কেউ বাঁধা হয়ে দাড়ালে বা আমার কোনো সমর্থককে হুমকি-ধমকি দেয়া হলে উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে।"

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দলটির জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মুফতি আবু নাছির আইয়ুবী, ভাঙ্গা উপজেলা সভাপতি মাওলানা হাফিজুর রহমান, সদরপুর উপজেলা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মুফতি জাকির হোসাইন সভাপতি, সভাপতি মাওলানা সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী, চরভদ্রাসন উপজেলার সভাপতি মুফতি জাকারিয়া সহ অনেকে। এর আগে তিন উপজেলা থেকে অসংখ্য নেতাকর্মী এই গণমিছিলে অংশ গ্রহণ করেন।