প্রতিদিনের জীবন

প্রতিদিনের জীবন
ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে করণীয়

ইসলামী জীবন

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কালবেলার সাংবাদিক শামীমের বিচার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কালবেলার সাংবাদিক শামীমের বিচার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক রিপোর্ট 

‎ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দৈনিক কালবেলা পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সাইফুল্লাহ শামীম এর বিচার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্থানীয় বিএনপি'র নেতা কর্মীরা। 

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী গাজীর বটতলায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে, শামীমের বিচার দাবী জানিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ভাঙ্গা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মুন্সির সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগীর বোন তাহারাত আক্তার।

‎এ সময় তিনি বলেন, দুই বছর পুর্বে ঘর মালিক জহির উদ্দিন মুন্সী (রামিম) এর একটি গোডাউন ভাড়া নেন সাইফুল্লাহ শামীম। তিনি, দুই তিন মাস ভাড়া ঠিকমত পরিশোধ করলেও পরবর্তীতে ভাড়া নিয়ে গড়িমসি শুরু করেন। সাত আট মাসের ভাড়া বাকী হয়। ভাড়া চাইলে দিবো, দিচ্ছি বলে কালক্ষেপন করে দুই এক মাসের ভাড়া দেয় বাকী টাকা রয়ে যায়। কয়েক মাস পূর্বে, আমার ভাই রামিম মুন্সী তাকে গোডাউন ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ করেন। তিনি আমার চাচা, চাচাতো ভাই ও ভাতিজার সঙ্গে কথা বলে কয়েকবার সময় নিয়েও ভাড়া পরিশোধ করেন না। 


লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন- সম্প্রতি, আমার ভাই তার কাছে ভাড়ার টাকা চাইলে তিনি আমার ভাইকে হুমকি দিয়ে বলে- হ্যাডম দেখাস? আমি সাংবাদিক, ভাড়া কিসের? ভাড়া দিবো না, পারলে নিস। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে, শামীম পড়ে গিয়ে টাইলসের সাথে আঘাত লেগে আহত হন। অথচ বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলে প্রচার করা হয়েছে, যা সম্পুর্ন মিথ্যা এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমাদের মুন্সি পরিবারের সম্মান হানি করতে শামীম এই মিথ্যা প্রচার করছে।   এ ঘটনাকে তিনি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে আমার ভাইকে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে মানববন্ধন ও থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। এই সংবাদ সম্মেলন থেকে আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সাইফুল্লাহ শামীমের বিচার দাবী করছি। আমাদের বাবা নেই, এই ভাড়ার টাকায় আমাদের লেখাপড়া ও অন্যান্য খরচ চলে। 

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই শামীম উপজেলা জুড়ে সাংবাদিক পরিচয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে। মানুষকে ব্লাকমেইল করে। আপনারা খোঁজ নিলে তার সকল অপরাধের প্রমাণ পাবেন। আপনারা জাতির বিবেক, আপনারা সঠিক সংবাদ প্রকাশ করে শামীমের মত এরকম চাঁদাবাজ সাংবাদিকদের হাত থেকে সমাজকে রক্ষা করেন। আমরা প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার দাবী করি। 

‎এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম, মুন্সী গোলাম আজম, আকাশ মুন্সী প্রমুখ।

ফরিদপুর-৪ আসনে রিক্সা-ধানের শীষের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইের আভাস! নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিলেন মিজানুর রহমান

ফরিদপুর-৪ আসনে রিক্সা-ধানের শীষের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইের আভাস! নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিলেন মিজানুর রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে ফরিদপুর-৪ আসনের ভোটের মাঠ। প্রত্যেক প্রার্থীই যার যার মতকরে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে এ আসনের ভোটারদের মন্তব্য রিক্সা ও ধানের শীষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ও দশ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা তার শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছেন। 

তার শক্ত অবস্থান জানান দিতে অনুষ্ঠিত হলো নির্বাচনী গণমিছিল। এতে তিনটি উপজেলার কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তাঁরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত জোট থেকে তাকে একক প্রার্থী নির্ধারণ করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। 

২৮ জানুয়ারি বুধবার বিকেল ৫ টায় ভাঙ্গা উপজেলার ভাঙ্গা ঈদগাহ ময়দান থেকে এই মিছিলটি শুরু হয়ে ভাঙ্গা বাজার প্রদিক্ষণ করে গোলচত্ত্বর এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

এই মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন মাওলানা মো. মিজানুর রহমান মোল্লা। এ সময় তিনি ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার ব্যক্ত করে বলেন- "দল আমাকে মনোনীত করেছেন, এই আসন উন্মুক্ত থাকায় জামায়াতের প্রার্থীও রয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি আমার দলের আমীর আল্লামা মামুনুল হক ভাঙ্গায় জনসভা করবেন। আশা করি, ওইদিনই জোটের বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে এবং আমাকে সমর্থন করবেন। যার প্রেক্ষিতে আজকের এই গণমিছিল।  গণমিছিলের উপস্থিতি বলে দিচ্ছে রিক্সা মার্কা বিজয়ী হবে ইনশাল্লাহ। আমি বিজয়ী হলে ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাব।"

তিনি আরও বলেন- "আমরা প্রশাসনের কাছে সুন্দর ও সুষ্ঠ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের সামনে কেউ বাঁধা হয়ে দাড়ালে বা আমার কোনো সমর্থককে হুমকি-ধমকি দেয়া হলে উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে।"

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দলটির জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মুফতি আবু নাছির আইয়ুবী, ভাঙ্গা উপজেলা সভাপতি মাওলানা হাফিজুর রহমান, সদরপুর উপজেলা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মুফতি জাকির হোসাইন সভাপতি, সভাপতি মাওলানা সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী, চরভদ্রাসন উপজেলার সভাপতি মুফতি জাকারিয়া সহ অনেকে। এর আগে তিন উপজেলা থেকে অসংখ্য নেতাকর্মী এই গণমিছিলে অংশ গ্রহণ করেন। 


ফরিদপুরে-৪ আসনে জোটের একক প্রার্থী হিসেবে দাবী মাওলানা মিজানুর রহমানের

ফরিদপুরে-৪ আসনে জোটের একক প্রার্থী হিসেবে দাবী মাওলানা মিজানুর রহমানের

ডেস্ক রিপোর্ট 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলের জোট থেকে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন সরে যাওয়ায় ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে জোটের একক প্রার্থী দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্যা। তিনি আসনটি থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন। 

১৬ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার পুলিয়া গ্রামে নিজ বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তিনি দাবি করেন- আসনটি উন্মুক্ত করে রাখা হলেও বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন ১১ দলের জোট থেকে সরে যাওয়ায় জোটের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি রয়েছেন। এই আসনে জামায়াতের যে প্রার্থী রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নামও নেই।

তিনি বলেন- "এই আসনে ১১ দলের জোটের বড় তিনজন প্রার্থী ছিল। যে কারনে উন্মুক্ত করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন সরে গিয়েছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলাম যে ১৭৯টি আসন বন্টণ করেছে সেই তালিকায় এখানকার জামায়াতের প্রার্থীর নাম নেই। জামায়াতের যে প্রার্থী রয়েছে আশা করি তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে জোটের পক্ষে কাজ করবেন। আমরা একত্রিতভাবে কাজ করে ইনশাআল্লাহ বিজয়ী হবো।"

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন- "কিছু কিছু বিষয় আমার নজর কেড়েছে এবং তা আপত্তিকর। আসনটির বিএনপির যে প্রার্থী রয়েছেন- উনারা অনেক জায়গায় মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। যদি তাঁরা এগুলো থেকে সরে না আসে তাহলে পরবর্তীতে অভিযোগ করে জানানো হবে।"

এছাড়া প্রশাসনের দলীয়করণের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন- এসব বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশাসনের উর্ধ্বতনদের জানানো হয়েছে। আমার দাবি তাঁরা যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন। 

উল্লেখ্য, ফরিদপুর-৪ আসন থেকে যাচাই-বাছাই ও আপিলের মাধ্যমে ৮ জন প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন মাওলানা মো. সরোয়ার হোসাইন এবং যাচাই-বাছাইয়ে তাঁর প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার আমির মাওলানা বদরুদ্দীন বলেন- আসনটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। যেহেতু ইসলামী আন্দোলন সরে গিয়েছে সেক্ষেত্রে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে সেটা জোটের বিষয় এবং এ বিষয়ে দ্রুতই সমাধান করা হবে। তবে জোট থেকে এখনও একক প্রার্থী দেয়া হয়নি৷