প্রতিদিনের জীবন

প্রতিদিনের জীবন
ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে করণীয়

ইসলামী জীবন

ভাঙ্গায় কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ সংরক্ষণে বিনামুল্যে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ

 

ভাঙ্গায় কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ সংরক্ষণে বিনামুল্যে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ

ডেস্ক রিপোর্ট 

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বিনামুল্যে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর ৩ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার মোট। ৬৫ জন কৃষকের মাঝে প্রত্যেককে একটি করে এয়ার ফ্লো মেশিন প্রদান করা হয়।

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ-আবু- জাহের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর ৪ আসনের সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম বাবুল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোল্লা আল-মামুন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ রমজান আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিমসহ কৃষি অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোল্লা আল-মামুন বলেন, ভাঙ্গায় প্রতি বছর ব্যাপক পরিমাণে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর প্রতি বিঘায় ১২০ থেকে ১৩০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। যা বিগত বছরগুলোনায় প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, ফলে কৃষকরা উপযুক্ত সময়ে ভালো দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারবেন। ফলে তারা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের সুবিধার্থে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ভাঙ্গায় বিনামুল্যে পাট, তিল ও আউশ ধানের বীজ বিতরণ

ভাঙ্গায় বিনামুল্যে পাট, তিল ও আউশ ধানের বীজ বিতরণ

ডেস্ক রিপোর্ট 

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে খরিপ- ১ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত মানের পাট, তিল ও আউশ ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে

৩১ মার্চ সকাল ১১ টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ - আবু - জাহের। 

কৃষি অফিস চত্বরে অনুষ্ঠিত এ বীজ বিতরণ কার্যক্রমে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোল্লা আল মামুন। এ সময় অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানে এক হাজার দুইশত কৃষকের মাঝে পাট বীজ, একশত কৃষকের মাঝে তিল বীজ ও একশত কৃষকের মাঝে আউশ ধানের বীজ বিতরণ করা হয়। এছাড়াও প্রত্যেক কৃষককে পাঁচ কেজি করে ডিএপি ও পাঁচ কেজি করে এমওপি সার দেওয়া হয়। 

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, এই কর্মসূচি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ ও সার সরবরাহের ফলে কৃষকরা সহজেই খরিপ মৌসুমে আবাদ সম্প্রসারণে উৎসাহিত হবেন এবং ফসলের উৎপাদনও বাড়বে। আপনাদের যে কোন সমস্যায় কৃষি অফিস ও আমরা আপনাদের পাশে আছি। 




‘প্রতিদিনের কাগজ’ এর প্রকাশনা বন্ধে হাইকোর্টের রুল

‘প্রতিদিনের কাগজ’ এর প্রকাশনা বন্ধে হাইকোর্টের রুল

স্টাফ রিপোর্টার 

​যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে প্রকাশিত দৈনিক 'প্রতিদিনের কাগজ' পত্রিকাটির প্রকাশনা কেন বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালতের এই আদেশের পর এবং পত্রিকাটির মালিকানা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ পাঠকদের মনে এখন বড় প্রশ্ন— ‘প্রতিদিনের কাগজ, তুমি কার?’


​গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। সম্প্রতি আদেশের অনুলিপিটি প্রকাশ্যে আসায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, 'প্রতিদিনের কাগজ' পত্রিকাটির দাপ্তরিক ডিক্লেয়ারেশনে সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে মাহমুদুল হাসান রতন-এর নাম নিবন্ধিত রয়েছে। অথচ দীর্ঘ দিন ধরে পত্রিকাটির প্রিন্টার্স লাইনে (পত্রিকার শেষ পাতায় মুদ্রণ সংক্রান্ত তথ্য) সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে ইয়াসমিন শীলা এবং ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে খায়রুল আলম রফিক-এর নাম প্রকাশ করা হচ্ছে।

​আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিক্লেয়ারেশনের বাইরে ভিন্ন কাউকে সম্পাদক বা প্রকাশক হিসেবে প্রচার করা ‘ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধীকরণ) আইন, ১৯৭৩’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মূলত এই জালিয়াতি ও অস্পষ্টতার কারণেই পত্রিকাটির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার সাবেক সাবেক সহ-সম্পাদক এবং দৈনিক প্রলয় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলামের দায়ের করা রিট পিটিশনের (নম্বর: ১৮২৫১/২০২৫) প্রেক্ষিতে আদালত শুনানি শেষে নিম্নলিখিত বিষয়ে 'রুল নিশি' জারি করেন। ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী কেন এই অবৈধ পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ করা হবে না, তা সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

​রিটে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (DFP) মহাপরিচালক, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (DC), জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং পত্রিকাটির বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খায়রুল আলম রফিককে বিবাদী করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী ০৪ (চার) সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

​আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সাকিব মাবুদ। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (D.A.G) খান জিয়াউর রহমান এবং মোহাম্মদ আব্দুল করিমসহ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীগণ।

​আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, রুলের নোটিশটি প্রচলিত নিয়ম ও রেজিস্টার্ড ডাক-উভয় মাধ্যমেই বিবাদীদের ঠিকানায় দ্রুত পৌঁছাতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পত্রিকাটির ভবিষ্যৎ এবং মালিকানা নিয়ে সৃষ্টি হওয়া এই আইনি জটিলতা আরও ঘনীভূত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম বলেন, ​"দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের অবৈধ প্রকাশনা এবং প্রতারণার প্রতিকার চেয়ে আমি মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেছি। মূলত ২০২২ সালে আমি এবং আমার বর্ত মান প্রতিষ্ঠানের প্রধান সম্পাদক লায়ন মোঃ মির্জা সোবেদ আলী উক্ত পত্রিকার ডেকোরেশন ও আনুষাঙ্গিক খরচের জন্য খায়রুল আলম রফিককে মোটা অংকের টাকা প্রদান করি। এরপর আমাকে সহ-সম্পাদক এবং মির্জা সোবেদ আলীকে ব্যবস্থাপনা সম্পাদক পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

​পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি যে, পত্রিকাটি মূলত ময়মনসিংহের একটি আঞ্চলিক প্রকাশনা পত্রিকা এবং খায়রুল আলম রফিক এর প্রকৃত মালিক নন। বিষয়টি জানার পর আমরা আমাদের পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আমাদের সম্মানহানি করেন।

​প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে আমি আইনের আশ্রয় গ্রহণ করি। আমার দায়েরকৃত রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট 'দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ'-এর অবৈধ প্রকাশনা কেন বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, আদালতের এই নির্দেশনার মাধ্যমে প্রতারক খাইরুল আলম রফিকের প্রকৃত মুখোশ উন্মোচিত হবে এবং অবৈধভাবে প্রকাশিত এই পত্রিকার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।"